অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রিয় পাঠক আপনি যদি ইতিমধ্যে অনুসন্ধান করে থাকেন অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে তবে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পারবেন। উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনায় সিলেবাস ভুক্ত এই কবিতাটি। চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ১

এমএ পাস রফিক বন্ধুদের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথাবার্তা বলার সময় বলে নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে বিয়ে নয়। কিন্তু পিতৃহীন রফিক চাচার সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারে না। পর সম্পদ লােভী চাচার আদেশে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। নিজের মতামত প্রকাশের মানসিক দৃঢ়তা না থাকার কারণে বিয়েবাড়িতে যৌতুকের মালামাল নিয়ে লােভী চাচার প্রশ্নের কারণে বিয়ে ভেঙে যায় । রফিকও চাচার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিয়েবাড়ি থেকে অসহায়ের মতাে চলে আসে।

ক, কল্যাণী কোন স্টেশনে নেমেছিল?

খ. কন্যার পিতা মাত্রেই স্বীকার করিবেন, আমি সৎপাত্র’- কেন?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত রফিক চরিত্রের সাথে অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের সাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

ঘ. দৃঢ়তার অভাবে রফিক নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে চাচার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে- ‘অপরিচিতা গল্পের আলােকে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তুমি কি একমত?

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ১ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তরঃ কল্যাণী কানপুর স্টেশনে নেমেছিল।

খ উত্তরঃ কন্যার পিতা মাত্রেই স্বীকার করিবেন, আমি সৎপাত্র’- এ কথা বলতে বােঝানাে হয়েছে যে, সুপাত্রের যেসব গুণ থাকা দরকার সেগুলাের সবই অনুপমের মধ্যে ছিল। তাই যেকোনাে কন্যার পিতা মাত্রেই তাকে সৎপাত্র হিসেবে স্বীকার করবেন। অনুপম সুদর্শন, শিক্ষিত।

মায়ের হাতেই সে মানুষ। মায়ের কোল যেন সে আজও ছাড়তে পারেনি। সে নিতান্ত ভালােমানুষ, | কোনাে বাজে নেশা নেই তার। এমনকি তামাকটুকু পর্যন্ত সে খায় না। বিয়ের জন্য মায়ের কথা সাধারণত এ ধরনের পাত্রই পছন্দ করেন। এ কারণেই বলা হয়েছে, কন্যার পিতা মাত্রেই তাকে সৎপাত্র হিসেবে স্বীকার করবেন।

সারকথা : অনুপমের মধ্যে ভালাে, ভদ্র ছেলের সব গুণ বিদ্যমান। এ কারণে কনের পিতা মাত্রেই তাকে সৎপাত্র বলে স্বীকার করবেন।

গ উত্তরঃ ব্যক্তিত্বহীনতায় উদ্দীপকে বর্ণিত রফিক চরিত্রের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে। ব্যক্তিত্ববান মানুষ নিজ চিন্তা-ভাবনা ও মতামতকে গুরুত্ব দেয়। আর যার ব্যক্তিত্বই গড়ে ওঠেনি তার নিজস্বতা বলতে কিছু নেই। অন্যের ইচ্ছায় সে চালিত হয়। এ ধরনের মানুষ চোখের সামনে অন্যায় দেখেও তার প্রতিবাদ করে না। সর্বত্রই তারা নির্লিপ্ত থাকে।

আরো পড়ুনঃ  ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

‘অপরিচিতা গল্পের অনুপমের মধ্যে এই নির্লিপ্ততা, ব্যক্তিত্বহীনতা প্রবলভাবে লক্ষণীয়। মামা আর মায়ের ইচ্ছাই তার ইচ্ছা। মামা তার বিয়ে ঠিক করে এবং বিয়ের আসরে মামার হীন কর্মকাণ্ডকে সে প্রশ্রয় দেয়। মামার অন্যায়কে মেনে নিয়ে বিয়ে না করেই বিয়েবাড়ি থেকে তাদের ফিরে আসতে হয়।

উদ্দীপকের রফিকও অনুপমের মতােই ব্যক্তিত্বহীন। চাচার সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে না পারার কারণে চাচার আদেশেই তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। যৌতুকের মালামাল নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে চাচার ঝামেলা বাধে এবং রফিক তার চাচার বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু বলতে পারে না। এভাবে অনুপম ও রফিক চরিত্র পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।

সারকথা : ব্যক্তিত্বহীনতা, নির্লিপ্ততায় উদ্দীপকের রফিকের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ উত্তরঃ দৃঢ়তার অভাবেই রফিক নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে চাচার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে অপরিচিতা’ গল্পের আলােকে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি একমত। স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য সবার আগে প্রয়ােজন মত প্রকাশের সাহস ও মানসিক দৃঢ়তা। যাদের সেই সাহস ও দৃঢ়তা নেই তারা সহজেই অন্যের কাছে নিজের ইচ্ছাকে বিসর্জন দেয়। চোখের সামনে অন্যায় দেখলেও ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তারা এর প্রতিবাদ করতে পারে না।

উদ্দীপকের রফিক এমনই মানসিক দৃঢ়তাহীন এক ব্যক্তি। চাচার সিদ্ধান্তের কাছে তার নিজের ইচ্ছাকে সে জলাঞ্জলি দিয়েছে। পর সম্পদলােভী চাচার লােভকে পরিতৃপ্ত করতে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। যৌতুকের মালামাল নিয়ে চাচা কনেপক্ষকে প্রশ্ন করলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও রফিক তার মত প্রকাশ করতে পারেনি।

উদ্দীপকের রফিকের মতাে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমেরও মানসিক দৃঢ়তার অভাব রয়েছে। বিয়ের আসরে মামা কনের গহনা যাচাই করতে চাইলে কল্যাণীর বাবার প্রশ্নের সামনে অনুপম নীরব থেকে মামার ইচ্ছাকেই সায় দেয়। অনুপম এবং রফিক উভয়ই নিজ ইচ্ছাকে সঁপে দিয়েছে অন্যের কাছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারেনি। আর এর মূলে কাজ করেছে তাদের মানসিক গড়ন ব্যক্তিত্বহীনতা।

সারকথা : মানসিক দৃঢ়তার অভাবে রফিক তার চাচার অন্যায় সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছে। ঠিক তেমনইভাবে অনুপমও তার মামার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।

আরো পড়ুনঃ  বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ২

অফিস থেকে ফেরার পথে রাশেদ বাসে দীর্ঘদিন পর দেখতে পেল রাবেয়াকে। মনে পড়ল রাবেয়ার সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। সমস্ত আয়ােজন সম্পন্ন হওয়ার পর হঠাৎ রাশেদের বাবা মােটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করে বসে মেয়ের বাবার কাছে। উচ্চশিক্ষিত সুদর্শন পুত্রের জন্য এটা নাকি তার ন্যায্য দাবি। রাবেয়ার বাবার যথেষ্ট সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজি হলেন না যৌতুক দিতে। ক্ষোভে-অপমানে তৎক্ষণাৎ ভেঙে দেন বিয়ে। ক্ষুব্ব রাবেয়াও সমর্থন করে বাবাকে। বিয়ে ভেঙে গেলেও রাবেয়া থেমে থাকেনি। এক । ব্যাংকারকে বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। চাকরি করছে একটা কলেজে।

ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেনের পেশা কী ছিল?

খ. “ভালােমানুষ হওয়ার কোনাে ঝঞ্জাট নেই”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের রাবেয়ার বাবার সাথে অপরিচিতা গল্পের শম্ভুনাথ বাবুর সাদৃশ্য কোথায়?

ঘ. উদ্দীপকের রাবেয়া ‘অপরিচিতা গল্পের কল্যাণী চরিত্রকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করে না”– স্বীকার কর কি? তােমার মতের পক্ষে যুক্তি দেখাও।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ২ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তরঃ ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেনের পেশা ছিল ডাক্তারি ।

খ উত্তরঃ অনুপম নিতান্ত ভালাে মানুষ বলেই তার আর ভালাে মানুষ হওয়ার ঝঞ্জাট নেই। গুরুজনেরা ভালাে ছেলে হিসেবে যাদের আখ্যায়িত করেন অনুপম তেমনই একজন। কলেজের সব পাস সে করেছে। তার কোনাে বাজে নেশা নেই, তামাক পর্যন্ত সে ধরে না। সে মায়ের আদেশ যেমন মানে তেমনই বড়দের কথাও মেনে চলে।

ভালাে মানুষ হওয়ার জন্য একজনকে অনেক বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে হয়। অনুপমের তেমন করার প্রয়ােজন পড়ে না। কারণ তার সেসব অভ্যাস নেই। তাই অনেকের কাছে ভালাে মানুষ হওয়া ঝঞ্ঝাটের মতাে মনে হলেও অনুপমের বেলায় সে ঝামেলা নেই।

সারকথা : ভালাে ছেলের সব গুণ অনুপমের মধ্যে বিদ্যমান। তাই ভালাে মানুষ হওয়ার ঝঞ্জাট তার নেই।

গ উত্তরঃ ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেন প্রবল ব্যক্তিত্ববান। এখানেই উদ্দীপকের রাবেয়ার বাবার সঙ্গে শম্ভুনাথ বাবুর সাদৃশ্য রয়েছে। মানুষের কথায়, কাজে আর আচরণে তার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে। ব্যক্তিত্ববান মানুষ কখনাে অন্যায়ের কাছে, মিথ্যার কাছে মাথা নত করেন না। তাতে যদি তার বিরাট ক্ষতিও হয় তবুও না।।

আরো পড়ুনঃ  আঠারাে বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন এমনই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। বরের মামা বিয়ের আসরে কনের গহনা পরীক্ষা করতে চাইলে তিনি ব্যথিত হন, তবু প্রথমে তিনি তা প্রকাশ করেননি। বরযাত্রীদের যথার্থ আপ্যায়ন শেষে তিনি এ বিয়ে ভেঙে দেন। কারণ তিনি কোনাে হীন মানসিকতার মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কে জড়াতে চান না।

উদ্দীপকের রাবেয়ার বাবাও কল্যাণীর বাবার মতােই। মেয়ের বিয়েতে বরের বাবা যৌতুক দাবি করলে তিনি ক্ষোভে-অপমানে বিয়ে ভেঙে দেন। বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় তিনি দ্বিধাগ্রস্ত হননি, ঠিক যেমনটি হননি অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বাবা।

সারকথা : ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন এবং উদ্দীপকের রাবেয়ার বাবা উভয়ই প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তারা অসম্মান ও অমর্যাদাকে মেনে নেননি। বিয়ে না দিয়ে এর প্রতিবাদ করেছেন।

ঘ উত্তরঃ “উদ্দীপকের রাবেয়া ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করে না”- বক্তব্যটিকে আমি স্বীকার করি । যৌতুক সামাজিক ব্যাধি। এটি সমাজের কাঠামােকে নষ্ট করে দিয়েছে। তাই অনেকেই যৌতুক ছাড়া বিয়ের কথা ভাবতেই পারে। এই যৌতুকের কারণে অনেক নারীর সংসার ভেঙে যাচ্ছে। আবার যৌতুক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক নারীকেই আত্মহননের পথ বেছে নিতে হচ্ছে।

‘অপরিচিতা গল্পের কল্যাণীর জীবনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। ঘটার আগেই তার পিতা বরপক্ষকে বরসহ বিয়ের আসর থেকে বিদায় করে দিয়েছেন। কিন্তু সমাজের এই রূঢ়তা কল্যাণীকে এক অন্য মানুষে পরিণত করেছে, সে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মানবসেবার ব্রত গ্রহণ করেছে।

অন্যদিকে উদ্দীপকের রাবেয়ার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। তবে, কল্যাণীর মতাে সে মানবসেবার ব্রত গ্রহণ করেনি। সে এক ব্যাংকার ছেলেকে বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। একটি বিশেষ ঘটনায় কল্যাণীর সঙ্গে রাবেয়ার মিল রয়েছে। তবে রাবেয়ার জীবন পরিণতি আর কল্যাণীর জীবন পরিণতি এক নয়। এসব দিক বিচার করে তাই বলা যায় যে, রাবেয়া কল্যাণী চরিত্রটিকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করে না।

সারকথা : জীবনের একটি বিশেষ ঘটনায় মিল থাকলেও উদ্দীপকের রাবেয়া গল্পের কল্যাণীকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.