‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ( ১০০% গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী)

আজকে ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরব। আশা করি, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের খুব উপকার হবে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক, ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের ২টি গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী সৃজনশীল ও উত্তর। 

 

 

'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

 

 

 

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর-১:

 

১৫ দিন কাটিয়া যায়। জীবন অতিবাহিত হয়। ঋতুচকে সময় পাক খায়, পদ্মার ভাঙন-ধরা তীরে মাটি ধসিতে থাকে। পদ্মার বুকে জল ভেদ করিয়া জাগিয়ে উঠে চর, অর্ধশতাব্দীর বিস্তীর্ণ চর পদ্মার জলে আবার বিলীন হইয়া যায়। জেলেপাড়ার ঘরে শিশুর ক্রন্দন কোনোদিন বন্ধ হয় না।

 

. রোকেয়ার মতে কখন ভারতবাসী অসভ্য বর্বর ছিল?

 

খ. ধান্য তার বসুন্ধরা যার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? 

 

গ. উদ্দীপকটি ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের যে দিকটি তুলে ধরে তা ব্যাখ্যা করো।

 

ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের একমাত্র আলোচ্য নয়, আরো প্রসঙ্গ আছে – বিশ্লেষণ করো। 

 

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

 

ক. রোকেয়ার মতে ভারতবাসী দেড়শত বছর পূর্বে অসভ্য-বর্বর ছিল । 

 

খ. “ধান্য তার বসুন্ধরা যার’ বলতে লেখক ফসলের অধিকারী জমির মালিকের ক্ষমতার দাপটকে বোঝাতে চেয়েছেন। 

 

বাংলাদেশকে শস্য-শ্যামলা, সুজলা-সুফলা করে গড়ে তুলতে গরিব চাষিদের অবদান অপরিসীম। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভূমি বা বসুন্ধরাকে ধন-ধান্যে পরিপূর্ণ করে তোলে। তাদের নিজের জমি নেই, অন্যের জমিতে তারা ফসল ফলায়। কিন্তু এমন নিরন্তর শ্রমের যথার্থ বিনিময় তারা পায়না। অনেকাংশে তারা বঞ্চিতই থেকে যায়। উৎপাদিত শস্যের অধিকারী হয়ে ওঠে সামন্তবাদী জমিদার শ্রেণি। জমির মালিকদের এহেন কুক্ষিগত আচরণ ও ক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে আলোচ্য উত্তিটিতে। 

গ. প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো আবহমানকাল ধরে চাষার জীবনও দুর্যোগপূর্ণ— উদ্দীপকে ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের এ দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। 

 

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে বাংলাদেশের কৃষককুলের দুর্দশার স্বরূপ উদ্ঘাটিত হয়েছে। কৃষকরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের দৈন্যদশার কোনো পরিবর্তন আসেনা। যুগযুগ ধরে তারা দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত। উদ্দীপকেও দরিদ্রশ্রেণির দৈনদশার স্বরূপ অংকিত হয়েছে। 

আরো পড়ুনঃ  ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (১০০% গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী)

 

উদ্দীপকে জেলে পাড়ার মানুষদের দুঃখ-দারিদ্র্যময় জীবনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সেখানে ক্ষুধার্ত শিশুদের নিরন্তর ক্রন্দন ধ্বনি শোনা যায়। সময়ের আবর্তে প্রকৃতিতে পরিবর্তন আসে, আসে বৈচিত্র্য। কিন্তু পদ্মাপাড়ের জেলেদের জীবনযাত্রার কোনো উন্নয়ন হয় না। দুঃখ-ক্রন্দনই তাদের নিত্যসঙ্গী। ‘চাষার দুক্ষু” প্রবন্ধেও এমন বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। চাষারা সমাজের মেরুদণ্ড। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ওপর ভর করেই সভ্যতার চাকা চলমান। অথচ এ শ্রেণির মানুষরা চরম অবহেলিত, দুর্দশাগ্রস্ত। সমাজ সভ্যতার নানা উন্নতি হলেও চাষার দুঃখ-দৈন্য শেষ হয় না। উদ্দীপকটি ‘চাষার দুঃক্ষু’ প্রবন্ধের এ দিকটিই তুলে ধরেছে।

ঘ. চাষার দুঃখময় জীবনের কারণ ও তা থেকে উত্তরণের নানা প্রসঙ্গ ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকে শুধু শ্রমজীবী শ্রেণির দুঃখময় জীবনের কথাই উচ্চারিত হয়েছে। এর থেকে উত্তরণের কোনো উপায় নির্দেশিত হয়নি।

 

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে লেখিকার মতে, চাষারাই সমাজের মেরুদণ্ড। তারা ফসল উৎপাদন করে খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে সমাজকে সচল রাখে। অথচ সেই কৃষকই সমাজে অবহেলিত ও বঞ্চিত। উদ্দীপকে পদ্মাপাড়ের নিচু শ্রেণি জেলেদের দুঃখময় ক্রন্দনজীবনের চিত্র অংকিত হয়েছে। প্রকৃতিতে পরিবর্তন এলেও জেলেপাড়ার মানুষের ভাগ্য বদলায় না। পদ্মায় ভাঙা-গড়ার খেলা চললেও জেলেদের দৈন্যভরা জীবনে পরিবর্তন ঘটেনা। তাদের ঘরে শিশুদের কান্না কোনো দিন বন্ধ হয় না । 

 

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে চাষিদের দুঃখময় জীবনের ছায়াপাত ঘটলেও এর পেছনে নানা কারণ ও দরিদ্রতা উত্তরণে নানা পরামর্শ দেন লেখিকা। চাষাদের দুঃখের জন্য তিনি বৈষম্যপূর্ণ সমাজকে মূলত দায়ী করলেও সভ্যতার বিবর্তনে চাষাদের বিলাসিতার মানসিকতাকেও নির্দেশ করেছেন। সামর্থ্যের বাইরে চাষি শ্রেণি ইংরেজি সভ্যতার অনুকরণ করে অলস জীবনে নিপতিত হয়। চাষাবাদ ও কুটির শিল্পের প্রতি তাদের অনীহা দেখা দেয়। তারা শিক্ষা-দীক্ষা থেকে পিছিয়ে থাকে। আবার যদি চাষিরা কৃষিকাজে মনোযোগী হয়, কৃষক-নারীরা তাঁতশিল্প ও কুটিরশিল্পে নিবেদিত হয় এবং গ্রামে গ্রামে যদি পাঠশালা স্থাপিত হয়, তাহলে তাদের দুর্দশা লাঘব হবে। এমন নানা যৌক্তিক প্রসঙ্গ প্রবন্ধে উপস্থাপিত হওয়ায় বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘চাষার দুক্ষু প্রবন্ধের একমাত্র আলোচ্য নয়, প্রবন্ধে আরো প্রসঙ্গ আছে।

আরো পড়ুনঃ  নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

 

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর-২:

 

দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘নীলদর্পণ’ নাটকে নীলচাষিদের দুঃখ- কষ্টের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এখানে ইংরেজ নীলকররা জোরপূর্বক কৃষকদের দিয়ে নীল চাষ করায়। সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকেরা নীল চাষ করে কিন্তু প্রাপ্য মজুরি পায় না। নীলকর জোরপূর্বক সব ফসল নিয়ে যায় । আর কৃষক শূন্য জমিতে পড়ে থাকে।

ক. পূর্বে পল্লিবাসীগণ কী প্রস্তুত করে কাপড়  কাচত?

 

খ.‘এন্ডি’ কাপড়ের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

 

গ. উদ্দীপকের নীলকররা ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের কাদের প্রতীক? চিহ্নিত করো। 

 

 ঘ.“উদ্দীপকের নীলচাষিরা ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের চাষিদের জীবন একই সূত্রে গাঁথা। ” বিশ্লেষণ করো। 

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর 

 

ক. পূর্বে পল্লিবাসীগণ ক্ষার প্রস্তুত করে কাপড় কাচত। 

 

খ. আসাম ও রংপুরের এক প্রকার রেশম থেকে উৎপাদিত ‘এন্ডি’ কাপড় অতুলনীয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল। 

 

“এন্ডি” কাপড় ছিল বেশ গরম এবং দীর্ঘস্থায়ী। এ কাপড় ফানেলের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী ছিল। একটি এন্ডি কাপড় চল্লিশ বছর পর্যন্ত টিকত। চার-পাঁচটি এন্ডি কাপড় থাকলে লেপ, কম্বল, কাঁথা – কিছুরই প্রয়োজন হতো না । 

গ. উদ্দীপকের নীলকররা ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর প্রতীক। 

 

“চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে ভারতবর্ষের কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র বর্ণিত হয়েছে। দারিদ্র্যের কশাঘাতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করে। তাদের পেটে খাবার জোটে না, শীতে বস্ত্র জোটে না, অসুখে চিকিৎসা হয় না । অথচ তাদের শ্রমের ওপর ভর করেই সমাজের শোষকশ্রেণি বিলাসী জীবনযাপন করে।

 

উদ্দীপকে ‘নীলদর্পণ’ নাটকের নীলচাষিদের দুঃখ-কষ্টের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। নীলকররা এখানে শোষকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। যে কৃষকদের পেটে অন্ন জোটে না সেই কৃষকদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক নীল চাষ করায়। যা কৃষকের অন্নবস্ত্রের সমাধান দিতে পারে না। ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধেও আমরা কৃষকদের প্রতি অবহেলা ও বঞ্চনার চিত্র পাই। যে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে বস্ত্রবয়ন শিল্প গড়ে উঠেছে সেই কৃষকের শরীরেই বস্ত্র জোটে না। কেননা তারা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। এছাড়া ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী কুটিরশিল্পকে ধ্বংস করে দিয়ে আত্মনির্ভরশীল গ্রামসমাজকে চরম সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকের নীলকররা যেন ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের ব্রিটিশ শোষকশ্রেণির প্রতীক। 

আরো পড়ুনঃ  নেকলেস গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ( ১০০% গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী)

 

ঘ. “আগ্রাসন ও নিষ্পেষণের দিক থেকে উদ্দীপকের নীলচাষিরা ও ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের চাষিদের জীবন একই সূত্রে গাঁথা”- মন্তব্যটি যথার্থ। 

 

যুগে যুগে কৃষক তথা শ্রমজীবী মানুষেরাই তাদের শ্রম দিয়ে সভ্যতার চাকা সচল রেখেছে। অথচ দুঃখের বিষয় হলো এই কৃষকরাই সমাজে অবহেলিত, লাঞ্ছিত এবং বঞ্চিত। উদ্দীপকে ‘নীলদর্পণ’ নাটকের নীলচাষিদের শোষিত হওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে । ইংরেজ নীলকররা তাদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক নীলচাষ করায়। কৃষকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নীল চাষ করলেও তারা তাদের প্রাপ্য মজুরি পায় না। ইংরেজ নীলকররা জোর করে সব ফসল নিয়ে যায়। ফলে কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে যায় এবং চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। 

 

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে কৃষকদের দুদর্শার চিত্র ফুটে উঠেছে। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে কৃষকদের দারিদ্র্যের কথা বর্ণনা করেছেন। তারা কষ্ট করে ফসল ফলায় কিন্তু নিজেরা খেতে পায় না। আবার তাদের উৎপাদিত পণ্যে বস্ত্র তৈরি হয় অথচ তাদের শরীরে বস্তু জোটে না। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাদের কুটিরশিল্প নাজুক করে দিয়েছে। 

 

উদ্দীপকের কৃষকরাও নীলকরদের দ্বারা শোষিত হয়। তারা কঠোর পরিশ্রম করে নীল চাষ করলেও প্রাপ্য মজুরি পায় না। তাই বলা যায় “উদ্দীপকের নীলচাষিরা এবং ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের চাষিদের জীবন একই সূত্রে গাঁথা।”

 

 
 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.