বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রিয় পাঠক আপনি যদি ইতিমধ্যে অনুসন্ধান করে থাকেন বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে তবে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পারবেন। উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনায় সিলেবাস ভুক্ত এই কবিতাটি। চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ১

গাহি সাম্যের গানমানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ,
অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।।

ক. বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পীর নাম কী?

খ. “আমরা বলি, যাহারই গায়ে জোর নাই, তাহারই গায়ে হাত তুলিতে পারা যায়।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের কোন বিষয়টির সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. বিষয়গত বৈসাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি বিলাসী’ গল্পের লেখকের মানসচেতনার প্রতিনিধিত্ব করে।- মন্তব্যটি বিশ্লেণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ১ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তরঃ বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পীর নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

খ উত্তরঃ তকালীন সমাজে দুর্বলের ওপর নির্যাতনের যে প্রবণতা ছিল সেই বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেই উক্তিটি করা হয়েছে।

মৃত্যুঞ্জয় যে সমাজে বসবাস করত সেখানকার মানুষ ছিল স্বার্থান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। সমাজের মানুষ জোটবদ্ধ হয়েছিল বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের প্রেমের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পােড়ােবাড়ির কক্ষে মৃত্যুঞ্জয়কে আটকে রেখে তারা সাপুড়েকন্যা বিলাসীর ওপরও চড়াও হয়েছিল। তাদের অপরাধ একটাই— অসম বর্ণের প্রেম। সমাজের এরূপ আচরণের কারণেই গল্পের কথক ন্যাড়া উদ্ধত শ্লেষাত্মক উক্তিটি করেছে। কারণ তারা ছিল দুর্বল ও অসহায়।

সারকথা : সমাজ তার ওপরই সব সময় অত্যাচার চালায় যে দুর্বল ও অসহায়।

গ উত্তরঃ উদ্দীপকটি বিলাসী’ গল্পের বর্ণবৈষম্য এবং মানুষকে ঘৃণা করার বিষয়টির সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

সব মানুষ একই স্রষ্টার সৃষ্টি। স্রষ্টার কাছে সব মানুষই সমান। তাই পৃথিবীতে স্বার্থের কারণে জাতিভেদ করে বৈষম্য সৃষ্টি করার কোনাে অর্থ হয় না ।

উদ্দীপকে সাম্যের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই পৃথিবীতে। দেশ-কাল-পাত্র ও ধর্মভেদে সব মানুষই সমান। তাই শুধু শুধু নিজেদের মধ্যে জাতিভেদ করা উচিত নয়। অন্যদিকে বিলাসী’ গল্পে জাত-পাত ও সামাজিক বিভেদের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

আরো পড়ুনঃ  ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

বিলাসী নিম্নবর্ণের মেয়ে। মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করতে করতে তার প্রতি অনুরাগ জন্মে এবং তাকে বিয়ে করে। নিচু জাতের মেয়ে বলে সমাজ এই বিয়ে মেনে নেয় না। অন্নপাপের অজুহাতে বিলাসীকে নির্যাতন করে। মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার কথা না ভেবেই অন্যায়ভাবে তার কাছ থেকে বিলাসীকে আলাদা করা হয়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের জাতিভেদের দিক দিয়ে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

সারকথা : উদ্দীপকে সাম্যচেতনার প্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পে সমাজের জাতিগত বিভেদ ও নিপীড়ন তুলে ধরা হয়েছে। এখানেই দুটি ক্ষেত্রের বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

ঘ উত্তরঃ বিষয়গত বৈসাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি “বিলাসী’ গল্পের লেখকের মানসচেতনার প্রতিনিধিত্ব করে।- মন্তব্যটি যথার্থ । আমাদের চারপাশ তখনই সুন্দর হবে যখন আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করতে শুরু করব। সবাই এক হয়ে সবার জন্য বাঁচব, শুধু নিজের স্বার্থে বাঁচব না।।

উদ্দীপকে মানুষে মানুষে সাম্যের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। দেশ-কাল-পাত্র ও ধর্মভেদে সবাই মানুষ, সবাই সৃষ্টিকর্তার আপন। তাই মিথ্যা বৈষম্য সৃষ্টি করা উচিত নয়। বিলাসী’ গল্পের মূল উপজীব্য বিষয় হচ্ছে জাতিভেদের অসারতা। গল্পে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের মধ্যকার সবচেয়ে বড় সমস্যা ও বাধা হলাে সমাজের তৈরি জাতিভেদ।

বিলাসী নিম্নবর্ণের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে। এ অপরাধেই বিলাসীকে নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়। এই বিষয়গত বৈসাদৃশ্য সত্ত্বেও উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের লেখকের মানসচেতনার প্রতিনিধিত্ব করে।

উদ্দীপকে জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে সব মানুষের মধ্যে সাম্যের কথা বলা হয়েছে। বিলাসী’ গল্পে লেখক তকালীন সমাজে এই সাম্যের অভাবই লক্ষ করেছেন। এ গল্পের মাধ্যমে তিনি মানুষকে মানবিক, উদার ও সহনশীল হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাই বলা যায়, বিষয়গত বৈসাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি বিলাসী’ গল্পের লেখকের মানসচেতনার প্রতিনিধিত্ব করে।

সারকথা : উদ্দীপকে সাম্যের কথা বলা হয়েছে যা বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু গল্পের লেখকের উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে সাম্যবাদিতা ও মানবিকতার প্রয়ােজনীয়তা তুলে ধরা। এ দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।

আরো পড়ুনঃ  আঠারাে বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ২

মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু….।

ক. শরশ্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

খ. বুক যদি কিছুতে ফাটে তাে সে এই মৃত স্বামীর কাছে একলা থাকিলে। বিষয়টি বুঝিয়ে বল

গ. উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে বিলাসী’ গল্পের কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে? নির্ণয় কর।

ঘ. উদ্দীপকটি বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিনিধিত্বকারী।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ২ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

খ উত্তরঃ স্বামীর প্রতি অপরিসীম ভক্তি থাকলেও মৃত স্বামীর সঙ্গে একা রাত কাটানাে যে দুঃসাধ্য তার বাস্তবিক প্রমাণ দিতে গিয়ে শরৎচন্দ্র বিলাসী’ গল্পে তা তুলে ধরেছেন।

‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া এক আত্মীয়ের মৃত্যুকালে সেখানে উপস্থিত ছিল। সতীসাধ্বী স্ত্রীটি তার স্বামীর শােকে বিহ্বল হয়ে পাগলের মতাে কান্নাকাটি করে। এমনকি স্বামীর সঙ্গে সহমরণে যেতে ন্যাড়াকে কাকুতি-মিনতি জানায়। অথচ ন্যাড়া যখন মৃতদেহের সৎকারের জন্য তােক জোগাড় করতে বাইরে যেতে চায় তখন মহিলা তাতে বাদ সাধে।

ভয়ার্ত ও শঙ্কিত কণ্ঠে বলে, ‘ভাই, যা হবার সে তাে হয়েছে, আর বাইরে গিয়ে কী হবে? রাতটা কাটুক না। ন্যাড়া বাইরে পা বাড়ানাে মাত্রই সেই নারী চিৎকার করে বলে ওঠে- “ওরে বাপরে! আমি একলা থাকতে পারব না।’ একলা থাকতে ভয় পাওয়ার বিষয়টি বােঝাতেই শরৎচন্দ্র আলােচ্য উক্তিটি করেছেন।

সারকথা : প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে মৃত স্বামীর কাছে একলা থাকতে না পারার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

গ উত্তরঃ উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের অসুখে বিলাসীর সেবা-যত্ন করার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে। মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিকতা ও ভালােবাসা মানুষকে মানবিক করে তােলে। মানুষ হিসেবে একজনের বিপদে অন্যজনের এগিয়ে আসা এবং সাহায্য করার মাঝেই মনুষ্যত্ব বেঁচে থাকে।

উদ্দীপকে মনুষ্যত্ববােধ ও মানবতার কথা বলা হয়েছে। মানুষের প্রয়ােজনে এবং বেঁচে থাকার জন্য মানুষ হিসেবে একে অন্যের প্রতি কিছু দায়দায়িত্ব রয়েছে। একজনের বিপদে-আপদে অন্যজন পাশে দাড়াবে এটাই মানুষের ধর্ম, সমাজের নিয়ম হওয়া উচিত।

আরো পড়ুনঃ  তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

বিলাসী’ গল্পে যখন অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের কেউ কোনাে খোঁজখবরই রাখে না, তখন বিলাসী ও তার বাবা মানুষের সমালােচনা ও সমাজের ভয়কে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে এসে দাঁড়ায়। বিলাসী রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে মৃত্যুঞ্জয়কে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনে। এই উদার মানবিকতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে ।

সারকথা : উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের অসুখে বিলাসীর সেবা-যত্ন করার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ উত্তরঃ “উদ্দীপকটি বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিনিধিত্বকারী।”- মন্তব্যটি যথার্থ। পৃথিবীতে বিচিত্র রকমের মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে বিচিত্র সব নিয়ম তৈরি করে মানুষ হিসেবে।

মানুষের পাশে দাঁড়াতে মাঝে মাঝে সেসব নিয়ম উপেক্ষা করে যেতে হয়। তা না হলে মানবিকতা ও মনুষ্যত্ব পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে। উদ্দীপকে মানুষের প্রতি মানুষের মানবিক আচরণ ও দায়িত্ববােধের কথা বলা হয়েছে। মানুষ হিসেবে একজনের প্রতি অন্যজনের সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে।

বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে থেকে বিলাসীর সেবাদানের দিকটির মধ্য দিয়ে মানবতার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হলেও গল্পটিতে বর্ণবৈষম্যের কথাও রয়েছে। সেখানে শুধু নিম্নবর্ণের বলে বিলাসীকে হতে হয়েছে নির্যাতিত। এ ছাড়াও গল্পে মানবপ্রেমের চিরন্তন সত্য ফুটে উঠেছে । সেই সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের পরিণতির কথাও। অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল মানবিকতার কথাই প্রকাশ পেয়েছে। 

উদ্দীপকে মানবতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। অপরদিকে বিলাসী’ গল্পে এ বিষয়টি ছাড়াও তৎকালীন সমাজের বর্ণবৈষম্য, স্বার্থপরতা, সামাজিক নানা অসংগতি ইত্যাদি উঠে এসেছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিনিধিত্বকারী ।

সারকথা : উদ্দীপকে মানবতার দিকটি প্রকাশিত হলেও ‘বিলাসী’ গল্পে এ বিষয়টি ছাড়াও অন্যান্য বিষয় রয়েছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.