নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

আজকে নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরব। আশা করি, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের খুব উপকার হবে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক, নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার ২টি গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী সৃজনশীল ও উত্তর।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর-১:

মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ভারতবাসী ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় এবং এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।

ক. কবির মতে পূর্ণিমার রং কেমন?

খ. কবি কেন সবাইকে গোল হয়ে সমবেত হবার আহ্বান জানিয়েছেন?

গ. উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর সাথে কবিতার কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার আংশিক ভাব প্রতিফলিত হয়েছে”- মন্তব্যটি যাচাই করো।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর 

ক. কবির মতে পূর্ণিমার রং তীব্র স্বচ্ছ।

খ. সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠার জন্য কবি সবাইকে গোল হয়ে সমবেত হবার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় কবি বাংলার দুর্দিনের সময়টি উপস্থাপন করেছেন। যখন শত্রুর কবলে পড়ে বাংলা মৃত্যুপুরীতে রূপনিয়েছে। কিন্তু এই মৃত্যুপুরীতেই কবি হঠাৎ চাঁদ দেখতে পান, প্রপাতের শব্দ পান। তাঁর মনে হয় যে উত্তরণের সময়টি হাজির হয়েছে। বিপদ থেকে উত্তরণ পেয়ে বাংলাকে শত্রুমুক্ত করার জন্য কবি সকলকে গোল হয়ে সমবেত হবার আহ্বান জানিয়েছেন।

গ. উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর সাথে কবিতার নূরলদীনের সাদৃশ্য রয়েছে। ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতায় কবি ঐতিহাসিক চরিত্র নূরলদীনের কথা বলেছেন ।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নূরলদীন ছিল সাহসী ও নির্ভীক এক নাম। ১১৮৯ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে নূরলদীনের ডাকেই রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে মানুষ প্রতিবাদ মুখর হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলা যখন মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছিল কৰি তখন মুক্তিকামী জনতা নূরলদীনের প্রতিবাদী কণ্ঠকে প্রত্যাশা করেছেন।

আরো পড়ুনঃ  নেকলেস গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ( ১০০% গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী)

উদ্দীপকে ভারতবর্ষের অবিসংবাদী নেতা মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে বলা হয়েছে। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের মহান নেতা। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েই ভারতবাসী ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। একইভাবে নূরলদীনের ডাকে বাঙালি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার হয়। প্রতিবাদীম্বরে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলা দুটি নাম নূরলদীন এবং মহাত্মা গান্ধী। প্রতিবাদী স্বরে দেশ রক্ষায় আন্দোলনের নায়ক হিসেবে আলোচ্য কবিতার নূরলদীন ও উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধী একে অন্যের প্রতিরূপ।

ঘ. ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতাটি শত্রু আক্রমণে দুর্দশাপীড়িত বাংলার ইতিহাস ও শোষণ উত্তরণে নূরলদীনের অবদানকে উপস্থাপন করছে, যার আংশিক প্রকাশ ঘটেছে উদ্দীপকে।

‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় কবি ঐতিহাসিক চরিত্র নূরলদীনকে স্মরণ করেছেন। তিনি ইতিহাসের পাতা থেকে নূরলদীনের আগমন প্রত্যাশা করেছেন। শকুনরূপী দালালদের দৌরাত্মে বাংলা বিপন্ন হয়েছে বলেই নূরলদীনের প্রতিবাদী সত্তাকে কবি জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার নূরলদীনের মতোই মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ করা হয়েছে। কারণ ভারতবর্ষের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধী অমর এক নাম। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের অবসানের প্রেরণা। আর প্রেরণা ছাড়া সাফল্য অসম্ভব। মহাত্মা গান্ধী ছাড়া তাই ভারতের মুক্তি অসম্ভব ছিল।

আলোচ্য কবিতা মহাত্মা গান্ধীর মতো প্রতিবাদী সাহসী নেতা নূরলদীনকে স্মরণ করলেও বাংলার মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়ার করুণ ইতিহাস এখানে অনুপস্থিত।

বাঙালির স্বপ্ন ও বাস্বাধীনতা হরণের গল্প উদ্দীপকে উঠে আসেনি। মূলত এসব দুর্দশা থেকে উত্তরণের জন্য কবি নূরলদীনের প্রতিবাদী কন্ঠের প্রত্যাশা করেছেন। কিন্তু এইসব সামগ্রিক আলোচনা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই যথার্থই প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকে ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার আংশিক ভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর-২ :

অমাবশ্যা এলেই পরাণ চাষিকে খুব মনে পড়ে।

সেইদিন সেই নীলবিদ্রোহ আর ক্ষোভানলে
হাতে লাঠি ছিল তার কিছু জনবল
পাহাড় সমান সাহস আর অগ্নিদ্রোহ নিয়ে
যখন সে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

আরো পড়ুনঃ  'বিড়াল' প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ( ১০০% গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী)

ক. দীর্ঘ দেহ নিয়ে মরা আঙিনায় কে আসে?

খ. ১১৮৯ বঙ্গাব্দ বিখ্যাত কেন?

গ. উদ্দীপকের প্রতিফলিত চেতনার সাথে কবির চেতনার মিল কোথায়?

ঘ. ‘পরাণ মাঝি এবং নূরলদীন সমকালীন ভাবনার সার্থক নায়ক’- আলোচনা করো।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর 

ক. দীর্ঘ দেহ নিয়ে মরা আঙিনায় আসে নূরলদীন।

খ. নূরলদীন বিদ্রোহ করেছিল বলেই ১১৮৯ বঙ্গাব্দ বিখ্যাত।
নূরলদীন একটি ঐতিহাসিক চরিত্র। ১১৮৯ বঙ্গাব্দে নূরলদীনের ডাকে মানুষ জেগে উঠেছিল। তৎকালে সাধারণ মানুষ সামন্তবাদের নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। নূরলদীন তখন মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। জানা যায়, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে তিনি সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন ১১৮৯ বঙ্গাব্দে।

গ. অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের চেতনার সাথে কবির চেতনার মিল রয়েছে।

‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় নূরলদীন সাধারণ মানুষের কাছে এক সংগ্রামী চেতনার প্রতীক। ১৭৮২ সালে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আহ্বান জানান। তাঁর সংগ্রামী আহ্বানে সেদিন সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছিল। এ কারণে নূরলদীন সকল | স্বাধিকার আন্দোলনে আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত।

উদ্দীপকে পরাণ চাষির দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে। নীলকররা যখন বাঙালির ওপর নিপীড়ন নিষ্পেষণ চালিয়েছিল তখন পরাণ চাষি গর্জে উঠেছিল । কিছু মানুষকে সংগঠিত করে নিজে হাতের লাঠি নিয়েই অসীম সাহসে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায়ও নূরলদীন একইভাবে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত। সময়ের সাহসী সৈনিকেরাই কেবলমাত্র নিজেদেরকে সংগ্রামে | অবতীর্ণ করতে পারে। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের চেতনার সাথে কবির চেতনায় মিল রয়েছে।

ঘ. পরাণ মাঝি এবং নূরলদীন সমকালীন ভাবনার সার্থক নায়ক- মন্তব্যটি বিদ্রোহী মনোভাবের দিক থেকে যথার্থ।

‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় নূরলদীন এক সংগ্রামী চেতনার প্রতীক। নূরলদীন যুগে যুগে স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রেরণার উৎস। নূরলদীনের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড পরাধীন মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সেদিন সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল। ১৭৮২ সালে বীর সংগ্রামী কৃষকনেতা নূরলদীন এক ঐতিহাসিক চরিত্র। তার যোগ্য নেতৃত্বে ১১৮৯ বঙ্গাব্দে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে সামন্তবাদ— সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে।

আরো পড়ুনঃ  ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (১০০% গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী)

আলোচ্য উদ্দীপকে পরাণ চাষি এক সংগ্রামী চরিত্র। নীলকরদের অত্যাচারে যখন বাংলার কৃষককুল জর্জরিত ছিল। মানুষের জীবন যখন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছিল তখন পরাণ চাষির মনে দারুণ ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে তিনি কিছুলোক সংগঠিত করে নীলকরদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। হাতের লাঠি নিয়েই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন শত্রুর মোকাবেলায়।

উদ্দীপক এবং ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা বিশ্লেষণ করলে পাই, পরাণ চাষি এবং নূরলদীন উভয়েই ছিলেন সময়ের সাহসী সৈনিক। | মৃত্যুর পরোয়া না করে তারা শত্রুর মোকাবিলা করেছেন অসীম সাহসিকতায় । সময়কে ধারণ করে তারা হয়েছিলেন দেশের সূর্যসন্তান, বীর নায়ক। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্য যথার্থ।

আশা করি, আজকের আর্টিকেল নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ভালো লেগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.